লর্ডসের ঐতিহ্যশালী মাঠে পরাজয়ের পর ইংল্যান্ডের দুর্বল বোলিং কে দুষলেন লয়েড

লর্ডসের মাঠে দীর্ঘ সাত বছর পর টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ড কে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। প্রায় সমস্ত ম্যাচটিতেই ব্যাট এবং বল উভয় বিভাগেই জো রুট বাহিনীকে পর্যদুস্ত করেছে কোহলি এবং তার বাহিনী। কিন্তু ব্রিটিশ কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান ডেভিড লয়েড ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে বুমরাহ ও সামির নবম উইকেটের পার্টনারশীপ কে নির্বাচিত করেছেন।

অসাধারণ জয়ের পর বিরাট কোহলির উচ্ছাস PC- Reuters

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটিং এর টপ অর্ডার অনেকটাই নড়বড়ে দেখিয়েছে ইংল্যান্ড এর বোলিং এর সামনে।অধিনায়ক বিরাট কোহলির উইকেটার পর এক সময় ভারতের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় 55/3। সেইসময় ইংল্যান্ডের আগ্রাসি বোলিংয়ের সামনে মহাকুম্ভর মতো রুখে দাঁড়ায় ভারতীয় সহ অধিনায়ক আজিঙ্ক রাহানে (61 রান 146 বলে ) এবং চেতশ্বর পূজারা (45 রান 206 বলে)। এই জুটি চতুর্থ উইকেটে যোগ করে মূল্যবান 100 রান। কিন্তু উভয় ব্যাটসম্যানের পতনের পর ভারতীয় ব্যাটিং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পরে এবং অষ্টম উইকেট পতনের পর ভারতের রানসংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র 209। ঠিক এইসময় ভারতীয় ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন যশপ্রীত বুমরাহ এবং মোহাম্মদ সামি, যারা মূলত ভারতীয় টিম এর নির্ভরযোগ্য পেস বোলার হিসেবেই পরিচিত। অষ্টম উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যান ভারতের জন্য মূল্যবান 89 রান যুক্ত করে  এবং ভারতের রান সম্মানজনক 298 এ পৌঁছে দেয়। যসপ্রীত বুমরাহ করে 64 বলে 34 রান এবং মোহাম্মদ সামি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতরান করে (56 রান 70 বলে)।

সামি ও বুমরাহর অনবদ্য নবম উইকেটে ব্যাটিং (PC-ক্রিকেট tracker)

ইংল্যান্ডের পরাজয়ের পিছনে লয়েড দায়ী করেছেন এই পার্টনারশীপ এর প্রতি ইংল্যান্ড এর দায়িত্বতোজ্ঞাণহীন বোলিং কে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং এর সময়। নবম উইকেট পড়ার পর যখন ইংল্যান্ড পেস বোলার জেমস অ্যান্ডার্সন ব্যাট করতে আসেন তখন তাকে একের পর এক বাউন্সরের মাধ্যমে ক্রিজে স্বাগত জানায় ভারতীয় বোলার রা বিশেষত বুমরাহ। তো স্বভাবতোই বুমরাহ ব্যাট করতে আসার পরেও ইংল্যান্ড বোলার রা একই পন্থা অবলম্বন করে। লয়েড এই দায়িত্বজ্ঞাণহীন পন্থাকেই ইংল্যান্ডের পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার কথা অনুযায়ী ইংল্যান্ড বোলার রা এই দুই টেলেন্ডার দের উইকেট নেওয়া টাকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রতিশোধ নেয়ায় উন্মুক্ত ছিলেন যা কিনা সাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ এর জন্য। লয়েড যুক্ত করেন –

“ইংল্যান্ড ম্যাচটি থেকে তখনি হারিয়ে যায় যখন বুমরাহ ব্যাট করতে আসে। তারা বুমরাহর উইকেটের থেকে টাকে বাউন্সার দেওয়া বেশি প্রয়োজন মনে করে। টেলেন্ডারদের ব্যাটিং সবসময় কিছু উদভাবনীয় ব্যাপার থাকে। বুমরাহ এবং সামি ইংল্যান্ডের বোলিং নিয়ে ছেলেখেলা করেছে। এবং তখনি যেন মনে হচ্ছিলো ইংল্যান্ড আস্তে আস্তে ম্যাচ তো থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।”

ডেভিড লয়েড
ইংল্যান্ড কিংবদন্তী ডেভিড লয়েড (PC- WISDEN)

কথাটি তিনি খুব ভুল ও বলেন নি। বুমরাহ এবং সামির ব্যাটিং এর পর যখন কোহলি ইনিংস ডিক্লেয়ার করে তখন চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের জয়লাভের জন্য দরকার ছিলো মাত্র 272 রান অবশিষ্ট 60 ওভারে যা কিনা এখনকার T20 ক্রিকেটার সময় কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড প্রথম থেকেই অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে ম্যাচ ড্র করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের মুহুর্মুহু আক্রমণে তারা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে এবং মাত্র 120 রানের মধ্যে তাঁদের ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটে। মোহাম্মদ সিরাজ মাত্র 32 রানের বিনিময়ে 4 উইকেট নেয় এবং ভারত বিজয়ী হয় 151 রানে।

লর্ডসের অনবদ্য জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট দল ( PC- BBC.COM)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
Share
Instagram
Telegram
WhatsApp